ঢাকা , শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৬ , ২০ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

পূর্বাচলে গরুর নামে বিক্রি হচ্ছে ঘোড়ার মাংস

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট সময় : ২০২৬-০৪-০৩ ১৫:৩০:৪৪
পূর্বাচলে গরুর নামে বিক্রি হচ্ছে ঘোড়ার মাংস পূর্বাচলে গরুর নামে বিক্রি হচ্ছে ঘোড়ার মাংস
নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানীর উপকণ্ঠ পূর্বাচলে জননিরাপত্তার অভাবকে কাজে লাগিয়ে গড়ে উঠেছে এক ভয়াবহ প্রতারণা চক্র। গত কয়েকদিন ধরে পূর্বাচলের নির্জন প্লটগুলোতে ঘোড়া জবাই করে সেই মাংস 'গরুর মাংস' হিসেবে বাজারে বিক্রির চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে। সম্প্রতি প্রশাসনের অভিযানে বিপুল পরিমাণ ঘোড়ার হাড় ও কঙ্কাল উদ্ধারের পর বিষয়টি নিয়ে এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

 
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পূর্বাচলের ১০ নম্বর সেক্টরের ৩০৫ ও ৩০৬ নম্বর রোডের আশেপাশে জনশূন্য খালি প্লটগুলোকে এই অসাধু চক্র তাদের প্রধান আস্তানা হিসেবে ব্যবহার করছে। পর্যাপ্ত আলো ও নিরাপত্তার অভাবে রাতের অন্ধকারে সেখানে ট্রাকে করে ঘোড়া নিয়ে আসা হয়। এরপর রাতারাতি সেগুলো জবাই করে মাংস সরিয়ে ফেলা হয় বিভিন্ন বাজারে।


অভিযান সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঘটনাস্থল থেকে ১১টি জীবিত ঘোড়া উদ্ধার করা হলেও বিপুল সংখ্যক ঘোড়ার কঙ্কাল ও হাড়গোড় পাওয়া গেছে। পরিত্যক্ত কঙ্কালগুলো পরে অটোরিকশায় করে সরিয়ে নেয় কর্তৃপক্ষ।

ঘটনার সত্যতা স্বীকার করলেও এখন পর্যন্ত এই চক্রের মূল হোতাদের কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি।

রূপগঞ্জ থানার নবনিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এএইচএম সালাহউদ্দীন শুক্রবার আমার দেশকে বলেন, ‘আমি এই থানায় সদ্য যোগদান করেছি। যতটুকু জেনেছি, এই অভিযানে র‍্যাব সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিল। জড়িতদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনতে আমাদের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।’

স্থানীয় বাসিন্দা নাঈম আহমেদ বলেন, প্রশাসনের হস্তক্ষেপে কিছু ঘোড়া জীবিত উদ্ধার করা হলেও চক্রটি অত্যন্ত ধূর্ত।

তিনি বলেন, ‘আমরা পরে শুনেছি জীবিত ঘোড়াগুলো কোথাও সরিয়ে নেওয়া বা বিক্রি করা হয়েছে। কিন্তু যখন এই অপরাধ চলছিল, তখন নিরাপত্তার অভাবে কেউ মুখ খোলার সাহস পায়নি। মূলত প্রশাসনের নজরদারির অভাবেই এই নির্জন এলাকাটি অপরাধীদের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে।’

জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি ও প্রতারণা

খাদ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গরুর মাংস বলে ঘোড়ার মাংস বিক্রি করা কেবল অপরাধই নয়, বরং এটি বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণও হতে পারে। কারণ এই ঘোড়াগুলো কোথা থেকে আনা হচ্ছে বা এগুলো কোনো রোগে আক্রান্ত কি-না, তা পরীক্ষা করার কোনো ব্যবস্থা নেই।

পূর্বাচলের মতো একটি পরিকল্পিত নগরে এমন নজিরবিহীন জালিয়াতি আন্তর্জাতিক মানের আবাসন প্রকল্পের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিয়েছে। স্থানীয়রা অবিলম্বে এই চক্রের মূলোৎপাটন এবং এলাকায় নিয়মিত পুলিশি টহলের দাবি জানিয়েছেন।

নিউজটি আপডেট করেছেন : [email protected]

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ